• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ২৮শে আষাঢ় ১৪৩৩ দুপুর ০২:০২:৫৭ (12-Jul-2026)
  • - ৩৩° সে:
বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচলে মধুপুর বনাঞ্চলে অভিনব উদ্যোগ

বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচলে মধুপুর বনাঞ্চলে অভিনব উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক: টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মধুপুর বনাঞ্চল অংশে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পাঁচটি বিশেষ রোপওয়ে করিডোর নির্মাণ করেছে বন বিভাগ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, এই উদ্যোগের ফলে সড়ক পারাপারের সময় যানবাহনের ধাক্কায় বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের আওতায় পঁচিশ মাইল এলাকা থেকে রসুলপুর বাজার পর্যন্ত মহাসড়কের পাঁচটি স্থানে উঁচু গাছের সঙ্গে বিশেষ কৌশলে দড়ি সংযুক্ত করে এসব রোপওয়ে করিডোর নির্মাণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বানর, হনুমান, কাঠবিড়ালি, সিভেটসহ বিভিন্ন বৃক্ষবাসী প্রাণী মাটিতে না নেমেই নিরাপদে মহাসড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে চলাচল করতে পারবে।বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মধুপুর বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে মহাসড়ক নির্মাণের পর থেকে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণ ব্যাহত হচ্ছে। খাদ্য সংগ্রহ বা আবাসস্থল পরিবর্তনের সময় অনেক প্রাণী সড়ক পার হতে গিয়ে দ্রুতগতির যানবাহনের নিচে চাপা পড়ে মারা যায়। নতুন রোপওয়ে করিডোর চালুর ফলে এ ঝুঁকি কমবে বলে তারা আশা করছেন।প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি করিডোর নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলোর কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণের পর ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে বনাঞ্চলের আরও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় একই ধরনের করিডোর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এস এম সাইফুল্লাহ বলেন, বনাঞ্চলসংলগ্ন মহাসড়কে বন্যপ্রাণীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ করলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমবে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচলের জন্য এ ধরনের রোপওয়ে করিডোর ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে ‘মধুপুর শালবন বনপ্রতিষ্ঠা প্রকল্প’-এর আওতায় পঁচিশ মাইল থেকে রসুলপুর বাজার পর্যন্ত পাঁচটি রোপওয়ে করিডোর নির্মাণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বানর, হনুমান, সিভেটসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে এবং সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঝুঁকি কমবে। তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে।