মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মানিকগঞ্জে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী পাখিবান্ধব বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। জেলার সাতটি উপজেলায় পাঁচ হাজার পরিবেশবান্ধব, পাখিবান্ধব, ঔষধি ও ফুলের গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিচালিত এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে, ‘চলো পাখির ঘুম ভাঙাতে যাই’।
৫ জুন শুক্রবার দুপুরে মানিকগঞ্জ বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক নাজমুল আরা সুলতানা। এ সময় তিনি শিশুদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেন।
আয়োজকরা জানান, “কেউ দেবে উঠান, কেউ দেবে গাছ; গাছের ফল আগে খাবে পাখিরা, এরপর বাকিরা” এই ধারণাকে সামনে রেখে শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাইক্লিস্টদের (সাইকেল আরোহী) সংগঠন ‘কুয়াশা মূর্খ’ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাখিবান্ধব বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শুরুতে এক হাজার গাছ লাগানোর লক্ষ্য থাকলেও পরে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়।
সংগঠনটির সদস্যরা সাইকেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে ইতোমধ্যে মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৬৫টি পাখিবান্ধব গাছ রোপণ করেছেন। নতুন এই উদ্যোগের আওতায় মানিকগঞ্জ সদর, সিংগাইর, হরিরামপুর, সাটুরিয়া, ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলায় মোট পাঁচ হাজার চারা রোপণ করা হবে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, রোপণ করা চারার মধ্যে থাকবে ২ হাজার ৫০০ পাখিবান্ধব ও দেশীয় ফলজ গাছ, ১ হাজার পরিবেশবান্ধব দেশীয় বৃক্ষ, ১ হাজার দীর্ঘশাখার ফুলের গাছ এবং ৫০০ ঔষধি গাছ।
পাখিদের খাদ্য ও আবাসস্থল নিশ্চিত করতে বট, পাকুড়, ডুমুর, ডেউয়া, আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, লটকন, আমড়া, আতা, সফেদা, জাম্বুরা, জামরুল, করমচা, গাব, কদবেল ও বেলসহ বিভিন্ন দেশীয় ফলজ গাছ রোপণ করা হবে। পাশাপাশি নিম, তেতুল, তাল, খেজুর, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, সোনালু, জারুল, পলাশ, শিমুল, বকুল, ছাতিম, কদম, অর্জুন, বহেরা, আমলকী ও হরিতকীসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষও এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উদ্যোগটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো গাছের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা নিশ্চিত করা। এ জন্য অধিকাংশ চারা স্থানীয় পরিবার ও স্বেচ্ছাসেবকদের তত্ত্বাবধানে রোপণ করা হবে। পাশাপাশি মসজিদ, মন্দির, আখড়াবাড়ি, দরবার শরিফ, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা প্রাঙ্গণেও গাছ লাগানো হবে।
কর্মসূচিতে রাস্তার সুর, হরিরামপুর শ্যামল নিসর্গ, বৃক্ষবান্ধব, হাকিম আলী গায়েন থিয়েটার, রঙের মানুষসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন অংশ নিচ্ছে। জেলার প্রতিটি উপজেলায় ২০ থেকে ২৫ জন স্বেচ্ছাসেবক বৃক্ষরোপণ, পরিচর্যা ও তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন।
গাছের বেঁচে থাকার হার নিশ্চিত করতে প্রতি তিন মাস অন্তর প্রতিটি চারার ছবি ও বৃদ্ধির তথ্য সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নাজমুল আরা সুলতানা বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। এই উদ্যোগ পাখি, প্রকৃতি ও মানুষের সহাবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।”
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী, জেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ আলী শাহরিয়ার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী এবং ‘কুয়াশা মূর্খ’-এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available